অনিয়ম পেলেই সিলগালা, মাঠে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ০২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ০২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন
সারাদেশে লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে সরকার। গত ৫ মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২৫০টিরও বেশি অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে গত ২৯ মার্চ থেকে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই শ’র বেশি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হলেও অন্তত ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এই কড়াকড়ির ফলে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে এবং আরও প্রায় ৩ হাজার আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ২৮৫টি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঢাকা বিভাগে-৪১৫টি। এছাড়া ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, খুলনায় ১৫৬, রংপুরে ১১১ এবং রাজশাহীতে ৫৫টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। বরিশাল ও সিলেটে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৮ ও ৮টি।
অভিযান চলাকালে রাজধানীর প্রায় ২৫টি নামী-দামী প্রতিষ্ঠানেও গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে, যাদের অনেককে জরিমানা বা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, শরীয়তপুর, পাবনা ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক দিনে প্রায় দুই শতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মানহীন বা অবৈধ কোনো প্রতিষ্ঠানকে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। যারা ন্যূনতম মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, তাদের প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, কেবল লাইসেন্স যাচাই নয়, বরং চিকিৎসার সরঞ্জাম, পরিবেশ এবং চিকিৎসক ও নার্সদের বৈধ সনদও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভুয়া ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সূত্র: বাসস
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স